মোঃ নাজিম আহম্মেদ (রানা ) জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মপুর আব্দুল জব্বার ডিগ্রি কলেজে সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কলেজটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জেলার একটি সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক, কর্মচারী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ—সাম্প্রতিক সময়ে কলেজটি নানা অনিয়মের আতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞ আমলি আদালত, সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা–এ দায়েরকৃত সি.আর. মামলা নং ৯৭২/২০২৫ সূত্রে জানা যায়, অত্র কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. এহতেশামুল হক ডাকুয়া গত ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখে স্বেচ্ছায় সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সরদার মো. মিজানুর রহমান গভর্নিং বডির অনুমোদন সাপেক্ষে ৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে তাকে ছাড়পত্র প্রদান করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখেই পদটি শূন্য হওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে যে, কলেজের সভাপতি আসাউদ্দৌলা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের যোগসাজশে বিধিবহির্ভূতভাবে আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৫—এই তিন মাসে প্রতি মাসে ৪৪ হাজার ৬৭০ টাকা করে মোট ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ১০ টাকা সোনালী ব্যাংক পিএলসি, হাট দারিয়াপুর শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়, যা সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর ৩১ জুলাই ২০২৫ তারিখেই এহতেশামুল হক ডাকুয়া কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য সহকারী অধ্যাপক পদে কমপক্ষে ৩ বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক। নবনিযুক্ত উপাধ্যক্ষের সেই অভিজ্ঞতা না থাকায় তার নিয়োগ বিতর্কিত হয়ে পড়ে এবং তিনি এমপিওভুক্তও হননি।
এমতাবস্থায়, ইস্তফার তথ্য গোপন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কলেজ সভাপতি সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে বেতনশিটে স্বাক্ষর ও প্রতিস্বাক্ষর দিয়ে ইস্তফাকৃত সহকারী অধ্যাপক পদের বেতন বাবদ ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ১০ টাকা উপাধ্যক্ষ এহতেশামুল হক ডাকুয়াকে প্রদান করেন। উক্ত অর্থ তার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর–৫১০৮৬০১০১৭০৪৬–এ জমা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী ও কলেজ প্রতিষ্ঠাতার ছেলে নজরুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও সহকারী অধ্যাপক পদে ইস্তফা দিয়ে আবার সেই পদের তিন মাসের বেতন উত্তোলন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি রাশেদা বেগম জানান, “এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
উপাধ্যক্ষ এহতেশামুল হক ডাকুয়া অভিযোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেননি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সরদার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “কমিটির নির্দেশে আমি ইস্তফা পদের বেতন প্রদান করেছি।”
অন্যদিকে গভর্নিং বডির সভাপতি আসাউদ্দৌলা বলেন, “আমি এসব নিয়ম ভালোভাবে বুঝি না। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী ইস্তফা পদের বেতন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”
এ জাতীয় আরো খবর..