এম এ হাসান, লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি :
শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলা থেকে ছয় কন্যা শিক্ষার্থীর কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যে এলাকায় আনন্দ ও গর্বের আবহ বিরাজ করছে। রোববার প্রকাশিত ফলাফলে তারা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ লাভ করেছে।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা হলেন—লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা জেলা আইনজীবী সমিতির দুইবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হক লিটুর কন্যা মাইশা হক আদৃতা, যিনি খুলনা সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্ণালী সড়কের বাসিন্দা ঠিকাদার কামরুল ইসলাম রাসেল ও পূর্ব চরকচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগমের কন্যা কামরুন নাহার সুজানা সুযোগ পেয়েছেন জামালপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে।
ডাওরী এলাকার বাসিন্দা ভোলা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক হুমায়ুন কবীরের কন্যা সায়মা কবির আনিকা এবং ধলীনগর ইউনিয়নের চতলা গ্রামের সাইদুর রহমান আজাদের কন্যা ইশরাত জাহান সাবরিন—উভয়েই ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছেন।
এছাড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ছিদ্দিকুর রহমানের কন্যা সুমাইয়া আশরাফ সুশমিতা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ফরিদপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে।
লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক মাকসুদ আলমের কন্যা খাদিজা আলম মীম ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন রংপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে (বিডিএস)।
একই উপজেলা থেকে ছয় কন্যার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো যেমন আনন্দিত, তেমনি গর্বিত লালমোহন উপজেলাবাসীও। এলাকাবাসী, শিক্ষক, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
সফল শিক্ষার্থীরা তাদের এই অর্জনের পেছনে বাবা-মা, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। ভবিষ্যতে চিকিৎসা পেশার মাধ্যমে মানবসেবায় আত্মনিয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সচেতন মহলের মতে, প্রত্যন্ত উপজেলা থেকেও নিয়মিত অধ্যবসায়, সঠিক পরিকল্পনা ও পারিবারিক সহায়তা পেলে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন সম্ভব—লালমোহনের এই ছয় কন্যার সাফল্য তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের এই অর্জন স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
এ জাতীয় আরো খবর..