×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১২-১৩
  • ১৪০ বার পঠিত

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

একসময় বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষ শামুক ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ভবদহ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের প্রধান পেশা এটি। বিশেষ করে অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর মাছের ঘেরে উৎকৃষ্ট খাবার হিসেবে শামুকের ভেতরের শাঁস ব্যবহৃত হওয়ায় এই পেশাটি ব্যাপকতা লাভ করেছে। শামুক ভেঙে শাঁস বিক্রি করে শত শত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে।
সরেজমিনে উপজেলার ঢাকুরিয়া, হরিদাসকাঠি, দূর্বাডাঙ্গা, নেহালপুর, কুলটিয়া, শ্যামকুড় ও মনোহরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন শত শত বস্তা শামুক কেনাবেচা হতে দেখা যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি জীবন্ত শামুক ১০ থেকে ১২ টাকায় এবং ভাঙা শামুকের শাঁস প্রতি কেজি ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই শামুক বিক্রি করে পানি বন্দী নিম্ন ও মধ্য আয়ের শত শত মানুষ প্রতিদিন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারছে।
ছোট ছোট নৌকায় করে বিভিন্ন বিল, খাল ও ধানের ক্ষেত থেকে শামুক কুড়িয়ে আনা হচ্ছে। একেকজন দিনে ৩ থেকে ৪ বস্তা শামুক কুড়াতে সক্ষম হচ্ছেন। মাছের ঘের, বিলের পাড় ও বিলের পার্শ্ববর্তী সড়কের পাশে শামুক কেনাবেচার হাট বসে। স্থানীয় পাইকারেরা এসব শামুক সংগ্রহ করে বস্তাবন্দী করেন।
হরিদাসকাঠি ইউনিয়নের ঘের ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ জানান, তার অধীনে সাত-আটজন বিলে শামুক কুড়ান। তিনি এই শামুক তার মাছের ঘেরের জন্য প্রতি কেজি ১২ টাকায় কেনেন এবং মাছের খাবার উপযোগী করতে শামুক ভাঙার জন্য প্রতি কেজি ২ টাকা খরচ করেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ কেজি শামুক কেনা হয়। তার কাছে যারা শামুক বিক্রি করেন, তারা প্রত্যেকে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ কেজি শামুক বিক্রি করে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করেন। তার মতো আরও অনেকেই বর্ষা মৌসুমে শামুক কেনাবেচা করছেন।

হাজিহাটের রবিন দাস জানান, সংগৃহীত এসব শামুক ট্রাকে করে খুলনা জেলার বিভিন্ন চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। ঘের মালিকেরা এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে চিংড়ির খাবার তৈরি করেন। বর্ষা মৌসুমে এলাকায় তেমন কোনো কাজ না থাকায় শামুকের বাণিজ্য করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অন্যদিকে বিনা পুঁজিতে এলাকার অনেকেই সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য বিভিন্ন জলাশয়ে শামুক কুড়িয়ে নিয়ে আসছেন।
এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় শামুকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটি কেবল একটি পণ্য নয়, বরং শত শত পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat