মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল
স্টাফ রিপোর্টারঃ
নওগাঁ সদর উপজেলার মাতা সাগর ইয়ার উদ্দিন ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মামুনুর রশীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁ উপজেলা দুবলহাটি মাতাসাগর ইয়ারউদ্দিন ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপারের এই কর্মকাণ্ডে মাদ্রাসার অভ্যন্তরেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
মাথা সাগর ইয়ার উদ্দিন ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ তৎকালীন সময়ের সভাপতি মোঃ ছলিম উদ্দিন দেওয়ান( সাবেক আওয়ামী লীগের বালিয়াগাড়ী ৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি) সুপার ও সভাপতি সহ ২ জন মিলে বিভিন্ন রকমের অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন এমনটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের দুর্নীতির বিষয় সমূহ নিম্নে দফা আকারে উল্লেখ করা হল।
১।সুপার ও সভাপতি ২ জন মিলে কোন প্রকার রেজুলেশন ছাড়া সরকারি বই বিক্রি করিয়া নিজেরা টাকা আত্মসাৎ করেন।
২।বিভিন্ন দাতার দানকৃত জমি হতে আয় সকল অর্থ আত্মসাৎ করেন।
৩। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে SEDP এরাও আওতাভুক্ত PBGSI স্কিম থেকে ৫ লক্ষ টাকা নির্ধারিত খাতে ব্যয় না করে প্রায় ৭০% টাকা ভুয়া ভাউচার তৈরি করে শিক্ষা অফিসে ফাইনাল সাবমিট করে।
৫।প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি হতে আয়ের কোন হিসাব সহকারী সুপার, শিক্ষক ও অভিভাবক সদস্যদের কে জানাতেন না।
৬।২০১৩ সাল থেকে টিউশন ফির টাকা কোন শিক্ষককে না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করতেন।
৭।মাদ্রাসার মাঠ থেকে প্রায় ৫০/৬০ টি মেহগুনি গাছ কেটে বিক্রয় করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
৮।নিয়োগ বাণিজ্য একটি ক্লিনার,একটি আয়া ও একটি ল্যাব সহকারি মোট (৩জন) কে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।
৯।দাতা সদস্য হওয়ার জন্য নিয়ম অনুযায়ী নগদ টাকা গ্রহণ করেছে তবে কাউকে রেজুলেশন করে দেননি এমনকি অভিযোগ তুলে ধরেছেন এলাকাবাসী।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকাবাসী—সকলেই সুপারকে বহিষ্কার এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক ছাত্র ইমরান হোসেন সহ এলাকার একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন অত্র মাদ্রাসার সুপার মামুনুর রশীদ ও তৎকালীন সময়ের সভাপতি ছলিম উদ্দিন দেওয়ানের নামে।
অত্র মাদ্রাসায় আয়া, নৈশপ্রহরী ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের নাম করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে এলাকা বাসীর দাবি, এছাড়া সরকারি অনুদানের পাঁচ লক্ষ টাকার মধ্যে কিছু টাকা দায়সারা করে শিক্ষক দের দিলেও বাকি টাকা তিনি প্রতিষ্ঠানের তহবিলে ফেরত দেননি। স্থানীয় মহল্লা বাসি অভিযুক্ত সুপারকে আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন।
মাদ্রাসার সহ-সুপার আফসার আলী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব ছিল। সুপারের এমন আচরণে মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।"
সহকারী শিক্ষক আয়ানউদ্দিন এবং রেবেকা সুলতানা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থী রুবেল ও আশরাফুল বলেন, "আমরা এমন ঘটনা আশা করিনি। আমাদের প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কমুক্ত করতে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির নীরবতা, অভিযুক্তের টালবাহানা
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সুপার মামুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন টালবাহানা করে বলেন আমি মাদ্রাসার কাজে ঢাকায় এসেছি বলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান এবং অভিযোগগুলো সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ছলিম উদ্দিন দেওয়ানের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার কোন মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে এইসব বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে:
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইবনুল আবেদিন দৈনিক সোনালী কন্ঠকে জানান, "অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করার নির্দেশ প্রদান করে জেলা শিক্ষা অফিসে চিঠি পাঠিয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
জেলা শিক্ষা অফিসার শাহাদত হোসেন বলেন "দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার শিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় মহল্লা বাসী আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত করে সুপারের প্রয়োজনীয় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করেন এলাকাবাসী।
এ জাতীয় আরো খবর..