ফেনী প্রতিনিধিঃফেনীতে চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবাদ ও উৎপাদন- দুটিতেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে জেলা। তবে ন্যায্যমূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
ফেনী কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় আমন আবাদ হয়েছে ৬৬ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৬০ হেক্টর, উফশী ৬৩ হাজার ১৪৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাত ৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর। উপজেলাভিত্তিক আবাদ- সোনাগাজী ২০,৯৭৯ হেক্টর, ফেনী সদর ১৫,৯১১ হেক্টর, দাগনভূঞা ৮,৫১০ হেক্টর, ছাগলনাইয়া ৯,২৮৪ হেক্টর, ফুলগাজী ৬,২১১ হেক্টর এবং পরশুরাম ৫,৮৬০ হেক্টর।
উৎপাদনেও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৭৯৪ টন। এর মধ্যে হাইব্রিড ৮৮ টন, উফশী ৬৩ হাজার ৭৮৫ টন এবং স্থানীয় জাতের ধান উৎপাদিত হয়েছে ২ হাজার ৯২১ টন। উপজেলাভিত্তিক উৎপাদন-সোনাগাজী ২০,৯৭৭ টন, ফেনী সদর ১৫,৯৩১ টন, দাগনভূঞা ৮,৫২২ টন, ছাগলনাইয়া ৯,২৯৪ টন, ফুলগাজী ৬,২১৫ টন এবং পরশুরাম ৫,৮৫৫ টন।
ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা।
ফুলগাজীর কৃষক আবদুল মালেক বলেন, “ফলন গতবারের চেয়ে ভালো হলেও সার, শ্রমিক আর কীটনাশকের খরচ এত বেড়েছে যে বর্তমান দামে খরচই উঠবে কিনা বুঝতে পারছি না।”
দাগনভূঞার কৃষক মো. ইলিয়াস বলেন, “ধান ঘরে তুলেছি, কিন্তু মিলাররা কম দাম বলছে। সরকার যদি দ্রুত ধান কেনা শুরু করে ন্যায্যমূল্য দেয়, তাহলে আমরা টিকে থাকতে পারব।”
সোনাগাজীর কৃষক রহিম উল্লাহ বলেন, “মাঠভরা ধান দেখতে ভালো লাগে, কিন্তু বাজারে গেলে মন ভেঙে যায়। একটু দাম বাড়লেই কৃষক ঘুরে দাঁড়াতে পারত।”
ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আতিক উল্লাহ বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তি, পোকামাকড় দমন কার্যক্রম এবং মাঠে সরাসরি কৃষকদের পরামর্শের ফলেই এ বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। পাখির ক্ষতি রোধে আলাদা করে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সামনে আরও ভালো উৎপাদনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্ধ থাকা শেট স্ক্রিন সোলারগুলো চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
কৃষকদের দাবি- সরকার দ্রুত খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ শুরু করলে মিলারদের প্রভাব কমবে এবং বাজারে স্থিতিশীল দাম নিশ্চিত হবে।
কৃষক আবদুল মালেকের ভাষায়-“আমরা শুধু খরচটাই ফিরে পেতে চাই। কৃষক বাঁচলে দেশও বাঁচবে।”