×
সদ্য প্রাপ্ত:
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ধানক্ষেত এর পাশ থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার মোন্থা’ এখন প্রবল ঘূর্ণিঝড়, বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ না ফেরার দেশে তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকী অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পরিশোধের দাবি সিলেটে দুই ট্রাক সাদাপাথর জব্দ, চালকদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা হবিগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলা ঢাকার ফ্লাইট নামছে চট্টগ্রাম-কলকাতায় মক্কায় এক সপ্তাহে ১৩.৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ দুটি পবিত্র মসজিদ পরিদর্শন করেছেন শিক্ষকদের ‘মার্চ টু সচিবালয়’ শুরু, পুলিশের বাধা
  • প্রকাশিত : ২০২৫-১২-০৭
  • ৩৩৩ বার পঠিত

জাহিদ হাসান টিপু 

জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর 


শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় তিন ফসলি জমি ও খাস জমি দখল করে রাতের অন্ধকারে মাছের ঘের তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গেলে কৃষকদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। লিখিত অভিযোগ করার পরও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের চরমাইজারি ও কোদালপুর লঞ্চঘাট এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, আজিজুল হক, হায়দার আলী, আরিফ হোসেন ও মাসুদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ কয়েকদিন ধরে এক্সকাভেটর দিয়ে কৃষি জমি কেটে বিশাল বাঁধ তৈরি করছে। প্রায় ৪০০ একর উর্বর কৃষিজমি—যেখানে মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো ও পাট চাষ হতো—তা এখন জোরপূর্বক দখলের মুখে।

এই জমির মধ্যে সরকারি খাস জমিও রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ অবস্থায় গত ২৪ নভেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

কৃষকদের অভিযোগ—ঘেরের কাজে বাধা দিলে প্রায় ১০টি বসতবাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দেয় দখলদাররা। রাতের আঁধারে যন্ত্র নিয়ে এসে ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এতে দুই শতাধিক কৃষক এখন সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

তৌকির আহমেদ শান্ত, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক:

“জোর করে জমির মাটি কেটে ফেলছে। আমরা চাষাবাদ করে বাঁচি। লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের জমি আর থাকবে না।”

সুফিয়ান, মরিচচাষি:

“আমার ১০০ শতক জমি দখল করে ঘের কাটা হচ্ছে। এই জমিতেই সংসার চলে। চাষ করতে না পারলে আমরা না খেয়ে মরব। জমি দখল হতে দেব না।”

৬৫ বছরের আছিয়া বানু, “এক মুহূর্তে ভেকু দিয়ে সব ভেঙে দিয়েছে। হাঁড়ি–পাতিল পর্যন্ত তুলতে দেয়নি। বাচ্চারা আতঙ্কে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। আমরা গরিব বলে কি আমাদের কোনো অধিকার নেই?”

অভিযোগ অস্বীকার করে হায়দার আলী বলেন—

“গতবছর প্রশাসন অনুমতি দিয়েছিল, পানি থাকায় কাজ করতে পারিনি। যারা ঘেরের ভেতরে পড়েছে তারা প্রথমে রাজি ছিল, এখন রাজি নয়। আপাতত কাজ বন্ধ রেখেছি।”

তবে অনুমতির কপি দেখাতে পারেননি তিনি।

বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও অস্বীকার করেন।

গোসাইরহাট থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন—

“সংবাদ পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে গিয়ে কোনো ভেকু বা অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। তারা আগেই সরে গেছে। তাদের চিহ্নিত করতে ভিন্ন কৌশলে কাজ চলছে।”

গোসাইরহাটের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রৌশন আহমেদ বলেন—

“দুদিন হলো যোগ দিয়েছি। অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। কৃষিজমিতে অনুমতি ছাড়া ঘের করা যাবে না।”

জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম জানান—

“অবৈধ ঘের নির্মাণের অভিযোগ পেয়েছি। খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat