মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সাতক্ষীরা
সুন্দরবন উপকূলীয় সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার হাটছোলা ও দেওল গ্রামের মানুষের জীবনে এখন সবচেয়ে বড় সংকট সুপেয় পানি। গ্রাম দু’টির হাজারো মানুষের জন্য ভরসা মাত্র একটি ফিল্টার। ফলে এক কিলোমিটার দূর থেকে পানি আনতে গিয়ে বিশেষ করে নারীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
পাশ্ববর্তী খানপুর, চণ্ডিপুর, চাতরা বেলেডাঙ্গা ও ইছাকুড় গ্রামের বহু মানুষকেও নির্ভর করতে হচ্ছে হাটছোলার এ একমাত্র ফিল্টারের ওপর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটছোলা গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে ‘নবযাত্রা ইনফরমেশন সেন্টার’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই বছর আগে ফিল্টারটি স্থাপন করে দেয়। তারপর থেকেই এটি হয়ে ওঠে আশপাশের বিশাল এলাকার একমাত্র সুপেয় পানির উৎস। হাটছোলা ও দেওল গ্রামের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী অন্তত পাঁচ গ্রামের শত শত মানুষ লাইন ধরে পানি সংগ্রহ করছেন প্রতিদিন।
গ্রামবাসীরা জানান, উপকূলীয় জনপদ হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া ও লবণাক্ততার কারণে টিউবওয়েল থেকে পানি পাওয়া যায় না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এসব এলাকায় সুপেয় পানির সংকট বছরের পর বছর ধরে চলমান। লবণাক্ত পানি পান করতে বাধ্য হওয়ায় অনেকে নানা পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
নারীরা জানান, প্রতিদিন ১-২ কিলোমিটার হেঁটে পানি আনতে তাদের কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে পরিবার–পরিচর্যা ও গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে ব্যাঘাত ঘটে, আর কষ্ট যেন শেষই হয় না।
দূরগ্রাম থেকে পানি সংগ্রহ করতে আসা নন্দী মন্ডল, সইবা রানী মন্ডল, কাজল মন্ডল ও শফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি মাত্র ফিল্টার হওয়ায় আমাদের ভোগান্তি কমছে না। অনেক দূর থেকে এসে লাইনে দাঁড়াতে হয়। বাড়ি ফিরতে ফিরতে দিনের অর্ধেক শেষ হয়ে যায়। সরকার যদি আরও দুইটি ফিল্টার স্থাপন করতো, তাহলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমে যেত।”
এ অবস্থায় তারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অতিরিক্ত সুপেয় পানি ফিল্টার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এ জনপদের মানুষ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।