বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা, খিলক্ষেত :
খিলক্ষেত থানার ৪৩ নং ওয়ার্ডের ডুমনি এলাকা এখন স্থানীয় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে, ডুমনি জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি "হাইব্রিড" ও মূলধারা-বিচ্ছিন্ন অংশ ক্ষমতাশীন দলের সহযোগী বা স্থানীয় নেতাদের অবৈধভাবে 'পুনর্বাসন' এবং 'মাসোহারা বাণিজ্যের' মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে স্থানীয় বিএনপি কর্মী নাসু (বাবুর্চি) এবং তার ছেলে ইয়ামিনকে।
মূল অভিযোগ ও মাসোহারা বাণিজ্যের প্রক্রিয়া
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ডুমনি টেকপাড়ার চিহ্নিত বিএনপি কর্মী নাসু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহযোগী এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। এই লেনদেনের মাধ্যমে তারা অবৈধ কার্যকলাপ ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করে বলে অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, নাসু সক্রিয়ভাবে ডুমনি বিএনপি'র মূলধারার বাইরে থাকা "রেজাউল মেম্বার গ্রুপ"-এর অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এই বিদ্রোহী অংশটিই স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশকে ডুমনিতে নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা ‘অভয়ারণ্য’ তৈরি করে দিয়ে অবৈধ সুবিধা আদান-প্রদান করছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।
নেপথ্যে ইয়ামিনের ভূমিকা ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য
নাসুর এই মাসোহারা বাণিজ্যের সিন্ডিকেটে সরাসরি সহায়তা করছেন তার ছেলে ইয়ামিন। খিলক্ষেত থানায় বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। কিছুদিন পূর্বে ইয়ামিন সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ইয়ামিন ডুমনিতে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং অভিযোগ অনুযায়ী, পুরানো মাসোহারা বাণিজ্যের সিন্ডিকেটটিকে নতুন করে সুসংগঠিত করে তোলেন। স্থানীয় মহল মনে করছে, এই সিন্ডিকেট আবারও ডুমনি এলাকায় চাঁদাবাজি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
তদন্তের দাবি ও নাগরিক সমাজের আহ্বান
এই গুরুতর অভিযোগগুলো সামনে আসার পর বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অবিলম্বে এই মাসোহারা বাণিজ্য সিন্ডিকেটকে গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তাদের আহ্বান, অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সিন্ডিকেটে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডুমনি এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হোক।
এ জাতীয় আরো খবর..