মোঃ রাফসান জানি, ভোলা :
জলবায়ু-বিপন্ন উপকূলের সুরক্ষার জন্য ন্যায্যতার দাবি জোরালো হোক ও উপকূলের জন্য হোক একটি দিন’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘ভয়াল ১২ই নভেম্বর’ কে উপকূল দিবস ঘোষণার দাবীতে ভোলায় আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সকাল ১০ টা সময় ভোলা প্রেসক্লাবে আলোচনা ও পরে র্যালি বের হয়। উপকূল ফাউন্ডেশন, ব-দ্বীপ ফোরাম, জাগরণ ফাউন্ডেশন, যুব রেড ক্রিসেন্ট ফাউন্ডেশন ভোলা, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, যুবশক্তি ছাত্র কল্যাণ, যুবশক্তি ফাউন্ডেশন, বদ্বীপ ছাত্র কল্যাণ সংসদ, পরিবর্তন যুব উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক ফাউন্ডেশন, আলোকিত ছাত্র জীবনে সংগঠন, ভলাটিয়ার্স ফোরাম বাংলাদেশ, ইয়ুথ নেটওয়ার্ক অফ ডেভেলপমেন্ট ও মানবতার বন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে এই আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলার বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেদ,মোঃ আসিফ আলতাফ, মোঃ হেলাল, এনামুল হক, শিমুল চৌধুরী, মোঃ জামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন, আবু তাহের সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বক্তারা বলে, ১৯৭০ সালের এই দিনে মহাপ্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় অঞ্চলসহ ভোলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছিলো। সেই স্মৃতি আজো যারা বেঁচে রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে যারা আত্মীয়-স্বজন হারিয়েছেন সেই বিভীষিকাময় দিনটি মনে পড়তেই আতঙ্কে উঠছেন। সেই দিন ভোলার এমন কোন গ্রাম ছিলোনা, যে গ্রামের কেউ না কেউ মারা যায়নি। আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় গাছে উঠে প্রাণ বাঁচায় অনেকে। ঘর-বাড়ি ফসল আর প্রিয়জন হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েন মানুষ। ৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় গোর্কির ছোবলে লন্ড-ভন্ড হয়ে গিয়েছিলো ভোলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার মনপুরা, চর নিজাম, ঢালচর, কুকরি-মুকরিসহ গোটা এলাকা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিলো। সে সময় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিলো ভোলায়। গোর্কির আঘাত এবং জলোচ্ছ্বাসের ভয়াবহতা এতই নির্মম ছিলো যে সেই দিনের কথা মনে পড়লে আজও আতঙ্ক আর ভয়ে শিহরে ওঠে ভোলাবাসীর প্রাণ। বাংলাদেশের উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়টিকে পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রানঘাতি ঝড় হিসেবে উলেখ্য করা হয়েছে। তাই এই দিনটিকে সরকারি ভাবে “উপকূল দিবস” হিসাবে ঘোষনা করার দাবি জানান বক্তারা। আলোচনা সভাশেষে ঘূর্নিঝড়ে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামোনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। পরে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
এ জাতীয় আরো খবর..