উক্ত শুনানিতে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, অপারেটর, পরিবেশক, খুচরা ব্যবসায়ী, অটোগ্যাস স্টেশন মালিক এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ নিজ নিজ প্রস্তাবনা, পরিচালন ব্যয় ও বক্তব্য পেশ করেন। শুনানিতে উঠে আসা বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত বিশদভাবে পর্যালোচনার পর এলপিজির নতুন সমন্বিত মূল্য নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করবে কমিশন।
বিইআরসি’র এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ৩৪(৬) ধারা মোতাবেক সরকারি ও বেসরকারি খাতের এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছিল।
শুনানিকালে সরকারি এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান 'এলপি গ্যাস পিএলসি', বেসরকারি আবেদনকারী সংস্থা, এলপিজি সরবরাহকারী, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাদের আনুমানিক ব্যয়ভার এবং নতুন দর প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনগুলোর পক্ষ থেকেও তাদের নিজস্ব মূল্য প্রস্তাব পেশ করা হয়।
একই সময়ে কমিশনের তৈরি কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পক্ষ থেকে মূল্য পুনর্নির্ধারণের আইনি ভিত্তি, কমিশনের এখতিয়ার ও দায়িত্ব এবং এলপিজির দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিভিন্ন কারিগরি বিষয় বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এই গণশুনানিতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), সাধারণ ভোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজন নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
বিইআরসির চেয়ারম্যান শুনানিতে উপস্থিত সকলকে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া শুনানি-পরবর্তী যেকোনো লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট যেকোনো পক্ষ কমিশনের নিকট তাদের লিখিত মতামত পাঠাতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, আবেদনকারীদের প্রাথমিক প্রস্তাব, কমিশনের গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন এবং শুনানিতে উঠে আসা অংশীজনদের সব পর্যবেক্ষণ বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুসরণ করে ভোক্তাপর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির চূড়ান্ত সমন্বিত দর নির্ধারণের আদেশ দেবে বিইআরসি।
উল্লেখ্য, বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে অতিপ্রয়োজনীয় এই এলপিজির অনিয়ন্ত্রিত দাম নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিদ্যমান। বিইআরসি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও, প্রায়শই মাঠপর্যায়ে সেই মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ ওঠে। বাজারে আমদানি, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও পর্যাপ্ত মজুত বজায় থাকার দাবি করা হলেও খুচরা দোকানগুলোতে সরকারি মূল্যে এলপিজি কিনতে না পারার অভিযোগ নিত্যদিনের।