নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
অনলাইন খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'ফুডপান্ডা'র (Foodpanda) অতিরিক্ত কমিশন, অস্পষ্ট চার্জ, একতরফা জরিমানা এবং বিক্রির অর্থ পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকরা। চট্টগ্রাম মহানগরে ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাবার সরবরাহ সাময়িক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আল্টিমেটাম ও ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
অতিরিক্ত ও জটিল ফি কাটছাঁট: সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক জানান, নির্ধারিত কমিশনের বাইরেও অনলাইন পেমেন্ট ফি, অপেক্ষার মাশুল, কমিশনের ওপর ভ্যাট, ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ নানা অজুহাতে অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মূল আয় থেকে লাভের বড় অংশই চলে যাচ্ছে।
অর্ডার বাতিলের লোকসান: প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা রাইডারের দেরির কারণে গ্রাহক অর্ডার বাতিল করলে তার পুরো আর্থিক লোকসান রেস্তোরাঁকে বহন করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
একতরফা তদন্ত ও পাওনা আটকে রাখা: গ্রাহকের ভুয়া বা অযৌক্তিক অভিযোগে রেস্তোরাঁর মতামত না শুনেই একতরফা অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিনের কাঁচামাল কেনা ও পরিচালনা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ১৩ দিন বা তার বেশি সময় বিক্রির টাকা আটকে থাকায় চলতি মূলধনের তীব্র সংকট তৈরি হচ্ছে।
১. অতিরিক্ত সব ধরনের অন্যায্য ও অস্পষ্ট ফি বাতিল করতে হবে।
২. দেশীয় প্ল্যাটফর্ম 'ফুডি'র (Foodi) মতো কমিশন ও অন্যান্য সব চার্জ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত ফি নির্ধারণ করতে হবে।
৩. রেস্তোরাঁর নিজস্ব ভুল বা দায় না থাকলে বাতিলকৃত অর্ডারের সম্পূর্ণ খাবারের খরচ ফুডপান্ডাকে বহন করতে হবে।
৪. রাইডারের বিলম্বের কারণে রেস্তোরাঁর ওপর আরোপিত জরিমানা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৫. গ্রাহকের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও রেস্তোরাঁর বক্তব্য না শুনে সরাসরি অর্থ কাটা বন্ধ করতে হবে।
৬. সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে বিক্রির পাওনা টাকা রেস্তোরাঁ মালিকদের হিসাব নম্বরে পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদসহ নগরীর শীর্ষ রেস্তোরাঁ মালিকেরা উপস্থিত ছিলেন। তারা অনতিবিলম্বে খাদ্য সরবরাহ খাতে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবি জানান।