×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-২৮
  • ৩৮ বার পঠিত

অর্থনীতি ডেস্কঃ

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালন পর্ষদে পরিবারতান্ত্রিক প্রভাব ও একক কর্তৃত্ব দূর করার প্রশ্নে নিজেদের কঠোর অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক উদ্যোক্তা ও মালিকদের বিভিন্নমুখী দাবির মুখেও পরিচালনা পর্ষদে পরিচালকদের একটানা মেয়াদ হ্রাস করা এবং একই পরিবার থেকে সদস্য সংখ্যা সীমিত রাখার পূর্বপ্রস্তাব বহাল রাখা হয়েছে।

গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’-এর খসড়া সংশোধনীতে যেকোনো একটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের প্রতিনিধির সংখ্যা তিনজন থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ দুজনে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিচালকদের একটানা মেয়াদ ১২ বছরের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ছয় বছর নির্ধারণ করা এবং পরবর্তীতে পুনরায় পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত তিন বছরের বাধ্যতামূলক বিরতি রাখার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।

পূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ব্যাংকিং খাত সংস্কারে যেসকল সুপারিশ করা হয়েছিল, ড. মোস্তাকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিদ্যমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেই নীতিগত অবস্থানেই অনড় রয়েছে।

তবে পরিচালনা পর্ষদের সার্বিক গঠন ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের সংখ্যার ক্ষেত্রে আগের খসড়া থেকে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত নতুন প্রস্তাবে পর্ষদের সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা ২০ জনে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে এবং স্বতন্ত্র পরিচালকের সংখ্যা দুইজনের জায়গায় বাড়িয়ে পাঁচজন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী খসড়ায় পর্ষদ সদস্য ১৫ জনে সীমাবদ্ধ রেখে মোট আসনের অন্তত ৫০ শতাংশ স্বতন্ত্র পরিচালকদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছিল।

রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঋণ বিতরণে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব মুক্ত রাখতে নতুন খসড়ায় জাতীয় সংসদের সদস্য, মন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হওয়ার পথ বন্ধের ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একই সাথে কৌশলগত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে শেয়ার ধারণের নির্ধারিত ১০ শতাংশের বাধ্যবাধকতা প্রয়োজনে শিথিল করার বিশেষ ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পর্ষদ কাঠামোর এমন পরিবর্তনের বিরোধিতা অব্যাহত রেখেছে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি ব্যাংকের পর্ষদে পরিবারের সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ তিনজন রাখা এবং পরিচালকদের একটানা মেয়াদ নয় বছর নির্ধারণের দাবি জানানো হচ্ছে।

মূলত বিপুল পরিমাণ খেলাপি ও মন্দ ঋণের চাপে জর্জরিত দেশের ব্যাংকিং খাতকে পুনরায় সুশৃঙ্খল ও পুনর্গঠন করার লক্ষ্যেই এসব সংস্কার পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণী সংস্থা মুডি’সের গত ১৫ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশে বিতরণকৃত মোট ঋণের প্রায় ৩২.৮ শতাংশই বর্তমানে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন যে, আইনটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের পূর্বে বিভিন্ন আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়ে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি উত্থাপন ও পাস করা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat