×
সদ্য প্রাপ্ত:
  • প্রকাশিত : ২০২৬-১০-১৯
  • ২৯ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং রাজধানীর নাগরি পরিবেশ ও বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও সংস্কারকৃত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এই দুটি মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও উপস্থিতিবর্গ

  • শহীদ পরিবারের সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অমর শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ফলক উন্মোচন করেন।

  • বৃক্ষরোপণ ও গ্রন্থাগার পরিদর্শন: স্মারক ফলক উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি প্রাঙ্গণে স্থাপিত লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

  • উপস্থিত অতিথিবৃন্দ: অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’: ইতিহাস ও স্থাপত্যের নান্দনিক মিলন

  • শহীদদের নাম ও সমাধিফলক: প্রায় এক একর ভূমির ওপর নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু এই স্মৃতিস্তম্ভটির গায়ে লেজার কাটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে খোদাই করে লেখা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। প্রধান কাঠামোর সামনে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে।

  • ত্রিমাত্রিক রিলিফ ভাস্কর্য: স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের অংশে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু এবং ভিতরের অংশে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু বিশাল রিলিফ ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান—বাংলাদেশের ইতিহাসের সব ধারাবাহিক মুক্তিসংগ্রাম দৃশ্যমান করা হয়েছে।

সবুজ ও আধুনিক নাগরিক কেন্দ্র: ওসমানী উদ্যান

২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব কেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে:

  • জলাশয় ও বৃক্ষরাজি: পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নতুন আরও পাঁচটি জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যমান বৃক্ষরাজির সুরক্ষার সাথে সাথে নতুন বহু চারা রোপণ ও দৃষ্টিনন্দন সবুজ দ্বীপ নির্মাণ করা হয়েছে।

  • নাগরিক সুবিধা: উদ্যানে ৩.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ), আধুনিক ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, পার্কিং, সুপেয় পানি ও গণ-শৌচাগার নির্মিত হয়েছে।

  • পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা: উদ্যানে রয়েছে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) ব্যবস্থা। পথচারীদের জন্য সড়ক থেকে ২ মিটার উঁচুতে স্থাপন করা হয়েছে দ্রুত চলাচলের বিশেষ এক্সপ্রেস ওভার-পাথ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
lube
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...
❮

❯
Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat