আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
সৌদি আরবের কৌশলগত পেট্রোকেমিক্যাল ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। সৌদি সামরিক অভিযানের জবাবে পাল্টা হামলা জোরদার করার অংশ হিসেবে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘সৌদি আরামকো’র কেন্দ্রগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে গোষ্ঠীটি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা সৌদি আরবের ধাহরানে আরামকোর প্রধান স্থাপনা, রাজধানী রিয়াদস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে সম্প্রতি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, "বিপুলসংখ্যক আধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে যৌথভাবে এসব হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।"
তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, আগামী দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও প্রধান তেল স্থাপনাগুলোতে এই ধরণের হামলা আরও তীব্র ও ধারাবাহিক রাখা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে প্রায় প্রতিদিনই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুথিরা। গত শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো এক ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। পাল্টা জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
টানা এই হামলার কারণে সৌদি সরকারের উচ্চাভিলাষী বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ (FII)-এ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্মেলনের মূল পরিকল্পনা বদলে এবার সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি অনলাইনে যুক্ত হওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা রাখছে রিয়াদ। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নির্বাহীরা দূর থেকেই যুক্ত হতে পারবেন। আর যাঁরা সশরীরে রিয়াদে আসবেন, তাঁদের রাজধানীর বাইরের কোনো সুরক্ষিত বিমানঘাঁটি অথবা প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার ধাহরানে অবস্থিত সৌদি আরামকোর প্রধান সদর দপ্তরের একটি প্রশাসনিক ভবনেও হামলা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়।
হুথি-সৌদি এই সংঘাতকে ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, "সৌদি আরবে অব্যাহত হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। সৌদি অর্থনীতি পুরো অঞ্চল তথা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রিয়াদের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের ওপরই পড়তে পারে।"